একাদশ শ্রেণিতে নতুন পাঠ্যক্রম অনুযায়ী এবারেই প্রথম সেমিস্টার ব্যবস্থায় পরীক্ষা নেওয়া হবে। ‘বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি’ বইটি সবেমাত্র ছাত্রছাত্রীরা হাতে পেয়েছে। এই গ্রন্থটি পর্ষদের তরফে বিনামূল্য ছাত্রছাত্রীদের দেওয়া হয়। বইটি এতো দেরি করে প্রকাশের পিছনে দায়ী পর্ষদ নিজেই। এদিকে প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষার দিনক্ষণ প্রায় ঘনিয়ে এলো। এমতাবস্থায় সঙ্গত কারণে মনে করাই যায় যে, সম্ভবত প্রথম সেমিস্টারের প্রশ্নপত্র কিছুটা সহজ হতে চলেছে বা অন্যভাবে বলতে গেলে হয়তো বা এবারের পরীক্ষায় মূল মূল বিষয়গুলো থেকে প্রশ্ন করা হবে। খুব গভীর বিষয় থেকে প্রশ্ন করা হবে না। সেটি বিবেচনা করেই গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলোর উপর ফোকাস রেখে প্রশ্ন-উত্তর পর্বকে সমৃদ্ধ করা হয়েছে।
৮১. উপভাষা কাকে বলে ?
উত্তরঃ একটি মূল ভাষা যখন একটু পরিবর্তিত হয়ে বিভিন্ন অঞ্চল ভেদে ব্যবহৃত হয় তখন তাকে উপভাষা বলে। যেমন, কবিতা – গল্পে বা সংবাদপত্রে যে বাংলা ভাষা ব্যবহার করা হয় তা বিশুদ্ধ বাংলা ভাষা। কিন্তু আমরা যে বাংলা ভাষায় কথা বলি তা শুদ্ধ বাংলা থেকে একটু অন্যরকম। উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি বা আলিপুরদুয়ার জেলায় মানুষ যে বাংলা ভাষায় কথা বলেন তার সঙ্গে বাঁকুড়া বা মেদিনীপুরে ব্যবহৃত বাংলা ভাষার কিছু তফাৎ আছে। অর্থাৎ বাংলা ভাষাই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে একটু পরিবর্তিত রূপে ব্যবহার করা হয়। মূল বাংলা ভাষার এই পরিবর্তিত রূপটিই হল উপভাষা। উপভাষাগুলির মধ্যে কোন একটি ভাষাকে Standard বা মান্য ভাষা হিসেবে গ্রহণ করে নেওয়া হয়। বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মানুষের কথ্য ভাষাকে মান্য ভাষা হিসেবে ধরা হয়েছে।
৮২. বাংলা ভাষার উপভাষা কয়টি ও কী কী ?
উত্তরঃ বাংলা ভাষার উপভাষা কতগুলি তা নিয়ে ভাষা পণ্ডিতদের মধ্যে কিছুটা মতভেদ রয়েছে, তবে মোটামুটি পাঁচটি ভাগ যে রয়েছে সেই নিয়ে সবাই একমত। সেগুলি হল –
রাঢ়ী: ভাগীরথী- হুগলি নদীর আশেপাশের মানুষ ব্যবহার করেন।
বঙ্গালী: বাংলাদেশের ঢাকা, মৈমনসিংহ, ফরিদপুর, বরিশাল, খুলনা, যশোহর, চট্টগ্রাম ইত্যাদি অঞ্চলের ব্যবহৃত ভাষা।
বরেন্দ্রী: মালদা, দিনাজপুরের ভাষা।
কামরূপী: জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও আসামের কিছু অঞ্চলের মানুষ ব্যবহার করেন।
ঝাড়খণ্ডী: পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, মেদিনীপুর, ঝাড়খণ্ডের মানভূম, সিংভূম এইসব অঞ্চলের ভাষা।
৮৩. সমাজভাষা বা Sociolect ভাষা বৈচিত্র্য দেখা যায়-
উত্তরঃ
- সামাজিক স্তরভেদে।
- অশিক্ষিত পরিবারের সন্তান শিক্ষিত হয়ে পেশার পরিবর্তন করলে।
- স্কুল-কলেজে শিক্ষিত হয়ে উঠলে।
৮৪. ব্যক্তিভাষা বা বিভাষা বা Ideolect ভাষা বৈচিত্র্য হল –
উত্তরঃ একই শ্রেণিভুক্ত ও অঞ্চলের ব্যক্তিদের মধ্যে যে ভাষার ব্যবহারের ক্ষেত্রে পার্থক্য দেখা যায় তাকে ব্যক্তিভাষা বৈচিত্র্য বলে।
৮৫. বাংলা কথ্য ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্তরগুলি হল-
উত্তরঃ
ব্যক্তিভাষা > সমাজ ভাষা > উপভাষা > মান্যচলিত ভাষা > বিশ্বভাষা
৮৬. বাংলা ভাষার দুইটি লিখিত রূপ আছে –
উত্তরঃ
- সাধু এবং
- চলিতরীতি
৮৭. সাধুররীতির রূপটি গড়ে ওঠে-
উত্তরঃ মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের হাত ধরে, এরপর রামমোহন রায়ের ‘বেদান্তগ্রন্থ’ এর মধ্যেও এই রীতিতে দেখা যায়।
৮৮. উনিশ শতকের বাংলা ভাষার চলিতরীতির নিদর্শনগুলি হল-
উত্তরঃ
- প্যারীচাঁদ মিত্রের- আলালের ঘরের দুলাল।
- কালীপ্রসন্ন সিংহের- হুতোম প্যাঁচার নকসা।
৮৯. বাংলা চলিতরীতি সাহিত্যে প্রচলন শুরু হয়-
উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চলিতরীতিতে সাহিত্য রচনা শুরু করলে এই রীতির ব্যাপক প্রচলন শুরু হয়। সবুজপত্র পত্রিকার সম্পাদক প্রমথ চৌধুরীও চলিতরীতিটিকে প্রচলনের ক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
৯০. সাধু ও চলিত ভাষার প্রধান পার্থক্য-
উত্তরঃ সর্বনাম এবং ক্রিয়া রূপের মধ্যে।
৯১. ‘ পাখী’ থেকে পাখি কী ধরনের পরিবর্তন-
উত্তরঃ সাধু ভাষার দীর্ঘস্বর চরিত্ররীতিতে হ্রস্বস্বরে পরিবর্তিত হয়েছে। এখানে ‘ঈ’ কার ‘ই’ কারে বদলেছে।
৯২. ‘টি’, ‘খানি’, ‘গুলি’ প্রভৃতি সাধু নির্দেশকগুলো চলিতরীতিতে হয় –
উত্তরঃ ‘টা’, ‘খানা’, ‘গুলো’। যেমন, মেয়েটি থেকে মেয়েটা, বইখানি থেকে বইখানা, বাড়িগুলি থেকে বাড়িগুলো ইত্যাদি।
৯৩. সাধু ভাষায় ব্যবহৃত ক্রিয়াপদটি চলিত ভাষায়-
উত্তরঃ সংক্ষিপ্ত হয়ে যায়। যেমন, করিতেছে থেকে করছে।